
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বিজিবি’র ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে বিজিবির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি) এর বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯ টায় বিজিবি মহাপরিচালককে সশস্ত্র সালাম প্রদানের মধ্য দিয়ে ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তিনি নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিজিটিসি অ্যান্ড সি-এর কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গাজী নাহিদুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি মহাপরিচালক ভাষণের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া তৎকালীন ইপিআরের ৮১৭ জন বীর সদস্যকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে অনুষ্ঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতাদেরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, “সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবি ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, মাদক ও অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি যোগ করেন, “দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তাকারী বাহিনী হিসেবেও বিজিবি আস্থা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।”
নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা এই চার মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে তোমাদের যেকোনো দায়িত্ব সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে হবে। শৃঙ্খলা সৈনিক জীবনের অলংকার। যে ব্যক্তি আদেশ ও কর্তব্য পালনে কখনো পিছপা হয় না, সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা এসব গুণ সৈনিকের শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি।” তিনি বলেন, “এই গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমেই তোমরা হবে দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন যোগ্য সৈনিক।”
নারী সৈনিকদের প্রতি বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ ইতিহাসে অনন্য। আজকের নবীন নারী সৈনিকরাও সেই গৌরবময় ধারায় যোগ দিয়ে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে সৈনিক জীবনে প্রবেশ করছে। আমি আশা করি, তারা বিজিবির কর্মকান্ডে আরও গতিশীলতা আনবে এবং বাহিনীর সুনাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
কুচকাওয়াজের প্রশংসা করে মহাপরিচালক নবীন সৈনিকদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাস্তব কর্মজীবনে তাদের কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। সীমান্তে নিয়োজিত অবস্থায় তাদের সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে বিজিবির ভাবমূর্তি। তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে কোনো অবস্থাতেই পিছু হটা যাবে না। দেশের এক ইঞ্চি মাটিও হাতছাড়া করা যাবে না। প্রয়োজনে প্রাণ দেবেন, তবু দায়িত্ব থেকে পিছপা হবেন না। এই নবীন সৈনিকরাই সীমান্তের নিরাপত্তা ও দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে।”
এ সময় তিনি বিজিটিসি অ্যান্ড সি-এর কমান্ড্যান্ট ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ ও কুচকাওয়াজের সফল আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী নবীন সৈনিকদের অভিনন্দন জানান।
ভাষণ শেষে বিজিবি মহাপরিচালক সেরা চৌকস রিক্রুট হিসেবে প্রথম স্থান অধিকারী বক্ষ নম্বর-৫৭৪ সাইফ মিয়াসহ অন্যান্য সেরা সৈনিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এরপর নবীন সৈনিকদের একটি চৌকস দল মহাপরিচালককে সশস্ত্র সালাম প্রদান করে কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করে।
শেষে বিজিবির প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় ট্রিক ড্রিল এবং সুসজ্জিত বাদকদলের মনোমুগ্ধকর ব্যান্ড ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে। দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে ৬৫৮ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী সর্বমোট ৬৯৪ জন রিক্রুট আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে সৈনিক জীবনে প্রবেশ করলেন।
অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সেনা কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।









