ট্রাভেল এজেন্সী নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ এর প্রণীত খসড়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সী নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ এর প্রণীত খসড়া গাইডলাইনে মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশীয় উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষাহীনতার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে আজ ১০ নভেম্বর (রবিবার) দুপুর সাড়ে ১১ টায় এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে চট্টগ্রামের সাধারন ট্রাভেল এজেন্সী মালিকবৃন্দ ।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন,মোহাম্মদ শাহ আলম, সাবেক সভাপতি হাব চট্টগ্রাম , প্রধান অথিতি আলহাজ্ব শরীয়ত উল্লাহ শহীদ,সভাপতি হাব চট্টগ্রাম, বিশেষ বক্তা আবদুল মালেক, সম্পাদক হাব.একরামুল হক সোহেল, স্বত্বাধিকারী নূর এ ফাতেমা হজ্ব কাফেলা, মো: ইকবাল খলিল সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ট্রাভেল এজেন্সী নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ এবং ট্রাভেল এজেন্সী নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২১ সংশোধন করে ট্রাভেল এজেন্সী নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ এর খসড়া তৈরি করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়। উক্ত অধ্যাদেশে সংযুক্ত ও সন্নিবেশিত নেতিবাচক বিষয়বস্তুর উপর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

২০১৩ইং সনের ৬১ নং আইনের ধারা ৫ এর উপধারা ১ এর (ঙ ) দফায় অন্য কোন ট্রাভেল এজেন্সী হতে টিকেট ক্রয় / বিক্রয় করা যাইবে না মর্মে সংযোজিত হবে ।

বিষয়টি চুড়ান্ত অধ্যাদেশে সংযোজন হলে ট্রাভেল এজেন্সী খাত বিপর্যয়ে পতিত হবে । ঘঙঘ ওঅঞঅ এজেন্সী, ছোট পরিসরে পরিচালিত ওঅঞঅ এজেন্সী গুলো ব্যবসা করতে পারবে না। প্রায় চার হাজার ট্রাভেল এজেন্সী বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে দেশের অর্থনীতি বিরুপ প্রভাব পরবে। কর্মহীন হয়ে যাবে সেবা খাতে নিয়োজিত লক্ষাধিক জনবল। সরকারী রাজস্ব ও কর কমে যাবে। তাই উক্ত বিষয়টি সংযোজন না করার জন্য মতামত প্রদান করছি

ধারা ৫ এর উপধারা ১ এ সংযোজিত দফা (জ) তে উল্লেখ করা হয়েছে। অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সীর ক্ষেত্রে, কোন- তফসিলি বাংকে ১০ লক্ষ টাকা জামানত রাখতে হবে।
প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ট্রাভেল এজেন্সীর ১০ লক্ষ টাকা জামানত রাখার সামর্থ নেই। উক্ত আইন চুড়ান্ত অধ্যাদেশে সংযোজিত হলে দুই তৃতীয়াংশ ট্রাভেল এজেন্সী বন্ধ হওয়ার শংকা দেখা দিবে। তাই সংযোজন না করার মতামত প্রদান করছি।

ধারা ৯ এর উপধারা (৩) এ “প্রমানাধি প্রাপ্ত হলে সরকার জনস্বার্থে শুনানী ব্যতিত সাময়িকভাবে নিবন্ধন সনদ স্থগিত করতে পরবে।
শুনানী করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মতামত প্রদান করছি।
২০২১ সালের ৩৪ নং আইনের ধারা ৫ এর সংশোধন উক্ত আইনের ধারা ১১ এর “অনধিক ৬ মাসের কারাদন্ড অথবা অনধিক ৫ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড এর পরিবর্তে অনধিক ৩ বছর কারাদন্ড অথবা অনধিক ৫০ লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড প্রতিস্থাপিত হবে।
এখানে দন্ডের ব্যবধান প্রায় ১০ গুন। এরকম অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রতিস্থাপন করা অযৌক্তিক । চুড়ান্ত অধ্যদেশে উক্ত আইন প্রতিস্থাপন হলে মিথ্যা অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে যাবে ফলে ট্রাভেল এজেন্সী ব্যবসা হুমকির সম্মুখীন হবে।
কোন খাতে অধ্যাদেশ জারি হলে ঐ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পরে। তাই অন্তরর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে কোন অধ্যাদেশ জারি না করে নির্ধাচিত সরকার কর্তৃক জাতীয় সংসদের মাধযমে ট্রাভেল এজেন্সী নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধনী) পাস করলে অধিক গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করছি।

মন্তব্য করুন