মুনিরিয়া যুব তবলীগের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, জবরদখল ও সন্ত্রাসের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির প্রধান মুনিরুল্লাহ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, জবরদখল, মাদ্রাসা-পুকুর দখল ও হামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার।

আজ ৪ মে (সোমবার) সকালে চট্টগ্রাম নগরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাদেক এসব অভিযোগ করেন। আব্দুল্লাহ আল সাদিক ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সাথী। তিনি জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ যোদ্ধা ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাদেক বলেন, মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটি নিজেদের অরাজনৈতিক ও তরিকতভিত্তিক সংগঠন দাবি করলেও বাস্তবে তারা ভূমিদস্যুতা, জমি দখল ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। রাউজানের কাগতিয়া গ্রামে স্থানীয়রা তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে আতঙ্কিত। প্রাণনাশের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে মুনিরুল্লাহর নির্দেশে তার বাহিনী কাগতিয়া মাইজপাড়া তালীমুল কুরআন মাদ্রাসা দারুল ইয়াতামা দখল করে। এ বিষয়ে থানা, শিক্ষা উপদেষ্টা ও ডিবি বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সংগঠনটি কাগতিয়া এলাকায় ৩৪৯ শতক নাল ফসলি জমি ও ৫টি পুকুর ভরাট করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মাইজপাড়া মসজিদ পুকুর, মজিদা পুকুর, আলি মিয়া ডাক্তার বাড়ির পেছনের পুকুরসহ এজমালী পুকুর। প্রাচীন ১২৭ শতকের মজিদা পুকুর রাতারাতি ভরাট করে মাঠ বানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মুছার স্মৃতিস্তম্ভ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শহীদ কবি শওকত হাফেজ খান রুমির স্মৃতিবিজড়িত তোরণটি তাদের ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

আবদুল্লাহ আল সাদেক বলেন, গত ৯ এপ্রিল রাতে নগরের বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকায় তার বাসায় মুনিরুল্লাহর ক্যাডাররা হামলা চালায়। পুলিশ তাকে বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করার পর মুখোশধারীরা বাসায় ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে। নারীদের হেনস্থাও করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল থানায় মামলা হলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বসতভিটা বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় এবং দখলের প্রতিবাদ করায় তার ও পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তার প্রবাসী বড় ভাই আল-আমিন সাব্বিরকেও মামলায় জড়ানো হয়, যদিও তিনি তখন বিদেশে ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাদেক দাবি করেন, মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির মহাসচিব ও দুই সহ-সভাপতি আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা। সংগঠনটি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রাউজান থেকে পাহাড়ি মাটি এনে পুকুর, খাল ও নাল জমি ভরাট করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগের পর এক দফায় ৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৪০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

তিনি পরিবারের নিরাপত্তা, দখলকৃত মাদ্রাসা, জমি ও প্রতিষ্ঠান ফেরত এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া জামায়াত ইসলামীর চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আইন সম্পাদক জসিম উদ্দিন আল আজাদ সেসময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন