
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ঈদুল ফিতরের ছুটির পূর্বেই বন্দর এলাকার শ্রমিকদের সব বকেয়া বেতন, ওভারটাইম বিল ও পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে গড়িমসি হলে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় এবং শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়।
বন্দর থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে বায়তুল আরাফ জামে মসজিদে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়ার্ড সভাপতি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী,শ্রমিকনেতা কাজী জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ জাকারিয়া ভুইয়া বন্দর থানা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম আদনান ও শ্রমিকনেতা আজিম উদ্দিন, শাহআলম ভুঁইয়া।
এস এম লুৎফর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাসিক বেতন পরিশোধ না করা, ঈদ বোনাস আংশিক দেওয়া বা একেবারেই না দেওয়া, ওভারটাইমের টাকা বকেয়া রাখা এবং বেতন কাঠামো নিয়ে অস্পষ্টতা সৃষ্টি করা—এসব অন্যায় বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন করা না হলে ন্যায়ভিত্তিক কর্মপরিবেশ গড়ে উঠবে না।
তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে পর্যাপ্ত ছুটি না দেওয়া, অতিরিক্ত কাজ করিয়ে যথাযথ পারিশ্রমিক না দেওয়া কিংবা হঠাৎ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা শ্রমিকবান্ধব আচরণ নয়। শ্রমিকরা মানুষ—তাদেরও পরিবার আছে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার অধিকার আছে।
কর্মঘণ্টা ও ছুটি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে মালিকপক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
চাকরির অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ঈদের আগে ছাঁটাই বা লে-অফের আশঙ্কা তৈরি করা এবং চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের চুক্তি নবায়ন না করা অমানবিক। এতে শ্রমিক পরিবারে নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশা সৃষ্টি হয়। শ্রমিকের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্র ও মালিক—উভয়ের দায়িত্ব।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈদের সময় বাজারদর বৃদ্ধি, বাসাভাড়া ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং পরিবারে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ শ্রমিকদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতায় সময়মতো বেতন ও পূর্ণাঙ্গ বোনাস পরিশোধ না করলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ঈদের আগেই শ্রমিকদের সব আর্থিক দাবি পরিশোধ নিশ্চিত করে শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত হলেই টেকসই শিল্পোন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।









