
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সাতকানিয়া উপজেলার রসুলাবাদ ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আহমদ রেজা বিগত ২১/৮/২০২৪ ইং তারিখ থেকে অত্র মাদ্রাসা হতে ছুটি ব্যাতীত লাগাতর অনুপস্থিত ছিলেন এবং যাওয়ার সময় মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র নিয়ে যান। অতপর সাবেক ছাত্র, বর্তমান ছাত্র ও শিক্ষক কর্মচারীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত পূর্বক বিগত ১৮/৯/২০২৪ ইং তারিখ
০০.২০.১৫৮২.০০১.২৭.০৫৬.২৪-৭৫ স্বারক মূলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম কর্তৃক প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক অধ্যক্ষ আহমদ রেজার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও বিধিমালা লংঘন সহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় উনাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের জন্য ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়, রেজিস্ট্রার বরাবর সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। উক্ত প্রতিবেদনের আলোকে ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিগত ৬/১/২০২৫ ইং তারিখ অত্র মাদ্রাসার এড হক কমিটির সভাপতি বরাবর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য চিঠি প্রেরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে বিধি অনুসরণ পূর্বক বিগত ১২/০৯/২০২৫ ইং তারিখ অত্র মাদ্রাসার এডহক কমিটির মিটিং এর ২ নং সিদ্ধান্ত মতে দুর্নীতিবাজ, অর্থ আত্মসাতকারী (যাহা পাঁচ সদস্য তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে ৫৭.৬৯.৪১৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রমানিত হয়েছে) ও পলাতক অধ্যক্ষ আহমদ রেজাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং তদন্ত রিপোর্টে প্রমানিত ৫৭.৬৯.৪১৫ টাকা তাঁর কাছ থেকে উদ্ধারের জন্য ও সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে আইনগত বৈধতার ডিক্রি চেয়ে বিগত ০৪/১১/২০২৫ ইং তারিখ সাতকানিয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অপর মোকদ্দমা নং ৭৫/২০২৫ ইং দায়ের করা হয়, বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে। পলাতক ও সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আহমদ রেজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনায়ন করে বিগত ২৯/৯/২০২৪ ইং তারিখ চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং ৬৮১/২০২৪ ইং( সাতকানিয়া) দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় পিবিআই এর তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালত উনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং পরবর্তীতে জামিন লাভ করেন, বর্তমানে মামলাটি চলমান আছে। পলাতক অধ্যক্ষ আহমদ রেজার অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ আনায়ন করে বিগত ১৩/৫/২০২৬ ইং তারিখ উপ পরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম ২ এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আহমদ রেজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে বিগত ১৩/৫/২০২৬ ইং তারিখ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং ৩০৫/২০২৬ দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তাধীন আছে। অত্র মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ তাজুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বরত থাকার কারণে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আহমদ রেজা তাঁর উপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয় এবং তাঁকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দমকি প্রদান করে আসছে। তারই প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ তাজুল ইসলাম বিগত ১৮/৩/২০২৬ ইং তারিখ উনার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন । অতঃপর আহমদ রেজার বাড়াবাড়ি চরম পর্যায়ে চলে যাওয়ায় বিগত ২৭/৪/২০২৬ ইং তারিখ তিনি সাতকানিয়া থানায় আর একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন। যাহার জিডি নং ১৩০৪। সাধারণ ডায়েরী টি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আহমদ রেজা সাধারণ ডায়েরী করার বিষয়টি জানতে পারায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ তাজুল ইসলাম এর উপর আরো বেশী ক্ষিপ্ত হয়। এমতাবস্থায় বিগত ১৯/০৫/২০২৬ ইং তারিখ বেলা ১১ ঘটিকার সময় পলাতক ও সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আহমদ রেজার নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন সন্ত্রাসী মাদ্রাসায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ তাজুল ইসলাম কে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে আটক করে ফেলে। এক পর্যায়ে আহমদ রেজা সহ কয়েকজন সন্ত্রাসী মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে চলে যায়। তখন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ তাজুল ইসলাম শিক্ষক মিলনায়তনে আটক থাকা অবস্থায় আহমদ রেজার সন্ত্রাসীরা উনার কাছে থাকা মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ সকল চাবির তোড়াটি জোরপূর্বক নিয়া নেয় এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ব্যবহারের স্মার্ট ফোনটি ও নিয়া নেয়। কিছু সময় পর সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আহমদ রেজা সহ আরো অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা শিক্ষক মিলনায়তনে আসে এবং আহমদ রেজা তাহার সাথে লিখিত কিছু কাগজ নিয়ে আসে এবং আহমদ রেজা কাগজ গুলো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ তাজুল ইসলামের সামনে দিয়ে সেখানে সাক্ষর করতে বলে। তিনি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে আহমদ রেজা এবং তার সন্ত্রাসীরা উনাকে মারধর করার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং হুমকি দেয় যে,যদি তিনি সাক্ষর না দেয় তাকে মারধর সহ প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে। তখন তিনি প্রাণ রক্ষার্থে আহমদ রেজার প্রদানকৃত তিনটি কাগজে স্বাক্ষর প্রদান করেন । যাহার মধ্যে একটি কাগজে উনার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ হতে পদত্যাগ করার কথা উল্লেখ ছিলো, অপর কাগজে আগামী ৭ দিনের মধ্যে আহমদ রেজার কাছে মাদ্রাসার হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সহ শিক্ষক রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর নেয়। উল্লেখ্য যে,শিক্ষক রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর নেওয়ারকালে সেখানে কোনো কিছু উল্লেখ ছিলো না। ঐ সময় আহমদ রেজা সহ তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে টানা হেচড়া করে অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে যায় এবং সেখানে নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহনের তারিখ অর্থাৎ বিগত ১/৯/২০২৪ ইং তারিখ হতে ১৯/৫/২০২৬ ইং তারিখ পর্যন্ত অত্র মাদ্রাসার যাবতীয় আয় ব্যয়ের ডকুমেন্ট সমূহ এবং কমিটির রেজুলেশন খাতা, নোটিশ খাতা ও শিক্ষক রেজুলেশন খাতা সহ অন্যান্য ডকুমেন্ট সমূহ জোরপূর্বক আহমদ রেজা নিয়ে নেয়। তখন আহমদ রেজা এবং বাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষ হতে বের করে দিয়ে হুমকি প্রদান করতঃ বলে যে,যদি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এই ঘটনার বিষয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ দেয় কিংবা ভবিষ্যতে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে মারধর সহ প্রাণে হত্যা করবে এবং উনার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করবে। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ তাজুল ইসলাম ঘটনার বিষয়টি মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে তাহাদের পরামর্শে সাতকানিয়া থানায় একই তারিখ বিকাল ৩ ঘটিকার সময় অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে অভিযোগ টি তদন্তাধীন আছে। বিগত ০৭/০৬/২০২৬ ইং তারিখ উল্লেখিত ঘটনা তথা মব সন্ত্রাসের কঠোর শাস্তি দাবী করে চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আহমদ রেজাকে ১ নং আসামী করে সি আর মামলা নং ৩৩৮/২০২৬ ইং দায়ের করেন । বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন আছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এই প্রতিবেদক কে জানান সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আহমদ রেজার উল্লেখিত ঘটনার বিস্তারিত লিখে আইনগত সমাধান চেয়ে বিগত ২৪/৫/২০২৬ ইং তারিখ ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবরে অভিযোগ জমা দিয়েছেন । তিনি আরো জানান আহমদ রেজা যেহেতু সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন, সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাঁর পক্ষে অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনগত বৈধতা নাই। অপর দিকে অত্র মাদ্রাসার এডহক কমিটির মেয়াদ সমাপ্ত হয়েছে বিগত ২৮/২/২০২৬ ইং তারিখ। বিভিন্ন জটিলতার কারণে পরবর্তী কমিটি গঠন করা সম্ভবপর হয় নাই। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন বিগত এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখের অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীর মাসিক বেতন বিলে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আহমদ রেজার স্বাক্ষর করা বিলে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) রহস্যজনক কারণে স্বাক্ষর করে বিলটি অনুমোদন দিয়েছেন। যেটা সম্পুর্ন আইনবহির্ভূত। এই বেআইনি কার্যক্রমের প্রতিকার চেয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিগত ৩/৬/২০২৬ ইং তারিখ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আহমদ রেজা বর্তমানে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কার্যালয়টি জোরপূর্বক সম্পুর্ন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন, যার দরুন আমি বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে মাদ্রাসার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এই বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করে মাদ্রাসার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। অভিযোগের ব্যাপারে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আহমদ রেজার কাছে কল করে জানতে চাইলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।









