জামায়াত কর্মীদের জীবন হতে হবে নৈতিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: হালিম

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে দিনব্যাপী রুকনপ্রার্থী ও অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবির শুক্রবার (৩ জুলাই) নগরীর সাফা আর্কেডে অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান এবং এডভোকেট এহছানুল মাহবুব জোবায়ের। শিক্ষাশিবিরে দারসুল কুরআন পেশ করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক আইআইইউসি’র সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক লেনদেন, সর্বক্ষেত্রে ইসলামের বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে মোয়ামালাত বা পারস্পরিক লেনদেনে সততা, আমানতদারিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে একজন জামায়াত কর্মীর ব্যক্তিত্ব পূর্ণতা লাভ করে না। মানুষের আস্থা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে উত্তম চরিত্র ও সুষ্ঠু আচরণ।

তিনি আরও বলেন, একজন রুকনপ্রার্থীকে কেবল সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের জন্য নয়, বরং ইসলামের আদর্শের বাস্তব নমুনা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই একজন কর্মীর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আত্মশুদ্ধি, দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার চর্চাই ইসলামী আন্দোলনের শক্তিকে আরও সুসংহত করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আত্মগঠন ও মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ইলম অর্জন, ইবাদতের মানোন্নয়ন, আত্মসমালোচনা, সময়ের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং চারিত্রিক উৎকর্ষের মাধ্যমে নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সমাজ তাদের আদর্শবান মানুষ হিসেবে গ্রহণ করে। একজন কর্মীর উন্নত চরিত্রই দাওয়াতের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট এহছানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, দাওয়াতে দ্বীন প্রত্যেক ঈমানদারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শ পৌঁছে দিতে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, উত্তম আচরণ ও হিকমতের সঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ, সর্বস্তরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম নাজিল হওয়া সূরা আল-আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত মানবজাতির জ্ঞান, শিক্ষা ও সভ্যতার ভিত্তি রচনা করেছে। ‘ইকরা’ বা ‘পড়ো’ নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলাম জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। ‘তোমার রবের নামে পড়ো’-এর মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহর নামে জ্ঞানচর্চার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের একমাত্র স্রষ্টা, এ সত্য তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ অতি তুচ্ছ অবস্থা থেকে মানুষকে সৃষ্টি করে সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। মানুষকে জ্ঞানের অধিকারী করা এবং কলমের মাধ্যমে লেখা, সংরক্ষণ ও জ্ঞানের প্রসারের ব্যবস্থা করা তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। মানুষ জন্মগতভাবে জ্ঞানহীন; আল্লাহই তাকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান দান করেছেন এবং তাঁর ইচ্ছানুযায়ী জ্ঞানের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন। তাই আল্লাহপ্রদত্ত জ্ঞান অর্জন, সংরক্ষণ ও মানবকল্যাণে কাজে লাগানোই প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব।

শিক্ষাশিবিরে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসেন, নগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সহ-সভাপতি মকবুল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমীনসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ।

মন্তব্য করুন