
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই বিপ্লব কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয়; এটি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অর্জন। জুলাইয়ের শহীদরা জাতির সম্পদ। তাদের আত্মত্যাগকে দলীয়করণ করা হলে তা জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হতো না। তাই জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আজ বিকাল ৫টায় ফেডারেশনের জামাল খান মহানগরী হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে “জুলাই বিপ্লবে শ্রমিকদের আত্মত্যাগ ও অবদান” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান-এর সভাপতিত্বে এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী।
প্রধান অতিথি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে চট্টগ্রাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের মানুষ সবসময় সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের নেতৃত্বের পাশাপাশি শ্রমিক, মেহনতি মানুষ ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই আন্দোলনকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। এই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফলেই দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তাই জুলাইকে কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে নয়, জাতীয় মুক্তি ও গণজাগরণের মাইলফলক হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। জুলাই শহীদদের সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান, গণঅভ্যুত্থানের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, গণভোটে প্রকাশিত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শহীদ ফারুক হোসেন, ওয়াসিম আকরাম ও ফয়সাল আহমদ শান্তসহ সকল শহীদ সমান মর্যাদার দাবিদার। তাদের পরিচয় কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; তারা বাংলাদেশের ইতিহাসের গর্বিত সন্তান। জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত বা দলীয়করণের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জুলাই শহীদদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ। এটি প্রমাণ করে যে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শ্রমিক সমাজের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের সংগ্রামকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে না। আদর্শিক, সুশৃঙ্খল ও জনমুখী শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় জুলাই যুদ্ধে চট্টগ্রামে শহীদ ফারুক হোসেনর স্ত্রী,ছেলে,মেয়েও আহত আবদুল আজীজ, শাহাদাত হোসেন মানিক ও জাহাঙ্গীর মুহুরী উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের আর্থিক সহায়তা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, জুলাই ঐক্য চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী আবরার হাসান রিয়াদ, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনায়ল, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মাহবুবুল আলম, শ্রমিক কল্যাণ মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।









