
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়েছে। এই আত্মত্যাগকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করে জাতীয় সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মান, পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করাই হবে জুলাইয়ের প্রকৃত চেতনার বাস্তবায়ন।
তিনি গতকাল চট্টগ্রামের জামালখানস্থ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর কার্যালয়ে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান-এর সভাপতিত্বে এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী। এতে জুলাই শহীদ ফারুক হোসেনের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে এবং আহত আবদুল আজীজ, শাহাদাত হোসেন মানিক ও জাহাঙ্গীর মুহুরী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল ছাত্র, শ্রমিক ও সর্বস্তরের জনতার সম্মিলিত সংগ্রাম। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগ এই আন্দোলনের সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, আহতদের সুচিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং তাদের পরিবারের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যারা আজও পঙ্গুত্ব ও শারীরিক কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছেন, তাদের অবদান কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়া চলবে না। জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আহতদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের অর্জনকে দলীয়করণের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। তাদের রক্তের ঋণ পরিশোধের একমাত্র উপায় হলো বৈষম্য, অন্যায় ও ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। তিনি শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং তাদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগর সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জি: সাইফুল ইসলাম।









