ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে নতুন সদস্যদের (রুকন) শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নগর কার্যালয় বিআইএ-তে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ-সভাপতি মকবুল আহমদ, জামায়াত নেতা শাহজাহান মহিউদ্দিন, মো. সালাহ উদ্দীন, মাওলানা ফজলুল কাদের, আহসান উল্লাহ, মফিজুর রহমান, মামুনুর রশিদ, আব্দুল আজিজ শোয়াইব প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং আজকের দেয়াল ধসে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমি নিহত ব্যক্তির রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে যারা পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের দ্রুত উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা ও জলাশয় দখল, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন, ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল ও স্থাপনা চিহ্নিত করে অপসারণ এবং টেকসই নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”

নতুন সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জামায়াতের সদস্যপদ শুধু একটি সাংগঠনিক পরিচয় নয়, এটি মহান আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার এক পবিত্র অঙ্গীকার ও আমানত। এ দায়িত্ব পালনে সর্বাবস্থায় তাকওয়া, ইখলাস, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও জবাবদিহিতার মানসিকতা ধারণ করতে হবে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কুরআন-সুন্নাহর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয়ে জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে নিবেদিত থেকে ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত ও সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার মধ্যেই একজন রুকনের প্রকৃত সফলতা নিহিত রয়েছে।”

অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যরা ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

মন্তব্য করুন