
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নিতে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী।
পরিদর্শনকালে তিনি জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্ভোগ ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত হন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য শুকনা খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পাঁচলাইশ থানা জামায়াতের আমীর ও ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাসান রুমি, ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস, জামায়াত নেতা খালেদ বিন কবির, সাইফুল ইসলাম মিন্টু, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ শাকিলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শন শেষে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, “টানা বর্ষণে নগরীর বহু এলাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কোথাও কোমরসমান, কোথাও হাঁটুপানি। অসংখ্য বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই সংকটময় সময়ে বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের উচিত পানিবন্দি মানুষের জন্য শুকনা ও রান্না করা খাবারসহ প্রয়োজনীয় জরুরি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা।”
তিনি বলেন, “আমরা এককভাবে কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। তবে যারা দাবি করেন চট্টগ্রামে আর জলাবদ্ধতা নেই, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই – চোখ বন্ধ করলে যেমন প্রলয় বন্ধ হয় না, তেমনি বাস্তবতাও অস্বীকার করা যায় না। আজ পুরো চট্টগ্রাম পানিতে ভাসছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমেনি; বরং অনেক এলাকায় আগের চেয়েও জলাবদ্ধতার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মানবিক সংকট মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”









