
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রামকে সবুজ, নান্দনিক ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ইমারত নির্মাণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেছেন, নগরের ৭০-৮০ লাখ মানুষ একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য চট্টগ্রামের প্রত্যাশায় সিডিএর দিকে তাকিয়ে আছে। তাই অনুমোদিত নকশা অমান্য করে ভবন নির্মাণ কিংবা আইনের কোনো ব্যত্যয় আর সহ্য করা হবে না।
রবিবার ১২ জুলাই,সিডিএ সম্মেলন কক্ষে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন, ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগ জোরদার করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সচিব,সদস্য (প্রকৌশল),অথরাইজড অফিসার, সহকারী অথরাইজড অফিসার এবং ইমারত পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চউক চেয়ারম্যান বলেন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও ভবনের নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্মাণাধীন প্রতিটি ভবনে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। শুধু নতুন ভবন নয়, প্রয়োজন হলে নকশাবহির্ভূত পুরোনো ভবনের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, নগরের নালা-খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। যারা খাল, নালা বা জলপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে পাহাড় কেটে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগও থাকবে না।
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে আইন বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোন না কেন, সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। আইন প্রয়োগে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে মোকাবিলা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় ইমারত পরিদর্শকদের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে তাদের জন্য স্বতন্ত্র পোশাক চালুর পাশাপাশি মোটরসাইকেল সরবরাহের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়।
সভায় চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, নান্দনিক, নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে কঠোর আইন প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি এবং সেবার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।









