স্থানীয় নির্বাচনে মেধাবী যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: অধ্যক্ষ আমিন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর যুব বিভাগের উদ্যোগে যুব কর্মী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নগর জামায়াতের কার্যালয়স্থ বিআইএ মিলনায়তনে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুব বিভাগের সভাপতি এবং মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন।

যুব বিভাগের সেক্রেটারি আ.ন.ম. জোবায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন পাঁচলাইশ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মুফিজুল হক ও চান্দগাঁও থানা জামায়াত নেতা ড. জাকির হোসেন হাওলাদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে যুবকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজেদের যোগ্যতা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে পারে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব। তিনি যুব কর্মীদের স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, তাদের সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের একটি প্রক্রিয়া নয়; বরং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কাজ করার এবং তাদের কল্যাণে ভূমিকা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই যোগ্য, সৎ ও দায়িত্বশীল যুবকদের জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে। যুব সমাজ নিজেদের নৈতিক ও সাংগঠনিক যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি সমাজের মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কথা, কাজ, আচার-আচরণ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে। মানুষের সঙ্গে বিনয়, সৌজন্য, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে দাওয়াতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও অর্থবহ করে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, যুব সমাজের কাজ কেবল সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, সমাজসেবা, মানবিক কার্যক্রম, নৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীল ও আদর্শবান নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে তিনি যুব কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, যুব সমাজ একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। নৈতিকতা, দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ যুবকরাই সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামী মূল্যবোধ ধারণ করে ব্যক্তিজীবন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে যুবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

শিক্ষাশিবিরের বিভিন্ন পর্বে প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ডেলিগেট সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুব কর্মীদের দায়িত্ব, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সমাজে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া শিক্ষাশিবিরে ‘দীন কায়েমে যুবকের ভূমিকা’ এবং ‘আগামীর সমাজ বিনির্মাণে যুব সমাজের ভূমিকা’সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী।

মন্তব্য করুন