রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে: ড. জিয়াউদ্দীন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমা আশরাফী। দুর্গম ও প্রত্যন্ত উপজেলার এ হাসপাতালে সাম্প্রতিক সময়ে পরিদর্শনে গিয়ে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবার মানসহ সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সমতলের হাসপাতালের চেয়েও রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম। হাসপাতালের কর্মকর্তা, চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতায় এখানকার রোগী সাধারণ তাদের কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। রাজস্থলী উপজেলার জনসাধারণের মধ্যে কেউ কুকুর ও সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলে তাদেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় কুকুরের কামড়ের টিকা-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ও সাপে কামড়ের টিকা- স্ন্যাক এন্টিভেনম দেয়া হয়। এ টিকাগুলোর বাজার মূল্য অত্যধিক হওয়ায় এখানকার অনেকের পক্ষে কেনা দুঃসাধ্য ব্যাপার। রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় এ হাসপাতালে সপ্তাহে ২ দিন আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করা হয়। রাতে হাসপাতালের সামনে অন্ধকার ঘোচাতে এলজিইডি’র সহযোগিতায় সোলার ল্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নওশাদ খান জানান, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক’র সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের মাঝে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে বিশেষয়িত মশারী বিতরণ করা হয়েছে এবং চলতি ২০২৬ সালে প্রায় ৩০ হাজার মশারী বিতরণ করা হয়েছে। মদনপাড়া তালুকদার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন সাপেক্ষে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পুষ্টি সামগ্রী বিতরণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজনসহ পুরস্কার বিতরণ কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকতারা বিভিন্ন সময়ে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন।
তিনি আরও জানান, এ বছর রাজস্থলীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ার কারণে সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে আমাদের সারা বছরের জন্য বরাদ্দকৃত ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট শেষ হয়ে যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা জরুরী ভিত্তিতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট সংগ্রহ করে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। মহিলাদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার সনাক্তকরণে চলতি সালের ২৮ অক্টোবর ভায়া ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ইনডোরে ১ হাজার ৮৭৫ জন, জরুরী বিভাগে ১ হাজার ৫৭৫ জন ও বহিঃবিভাগে ১৮ হাজার ৪৮১ জন রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে এবং ১৬১টি নরমাল ডেলিভারি করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর হাসপাতালে রোগী ও সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নওশাদ খান আরও জানান, ২০২৫ সালে ৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। চলতি ২০২৬ সালে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করায় মোট ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন এবং তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে এ পর্যন্ত কেউ মৃত্যুবরণ করেনি। এছাড়া ২০২৫ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমে শতভাগ লক্ষ্য অর্জিত হয়। মহিলাদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রমে হাম-রুবেলা (এমআর) প্রথম দফা টিকাদান কার্যক্রমে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জিত হয়। চলমান হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কার্যক্রমে চলতি সালে এ পর্যন্ত ৯৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী উন্নয়ন সংযোগী সংস্থাগুলোর সার্বিক সহযোগিতা পেলে রাজস্থলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎিসাসেবার মান আরও দৃশ্যমান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. নওশাদ।

মন্তব্য করুন