ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই: সাংসদ আবু সুফিয়ান

নিউজগর্ডেন ডেস্ক: “দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ বাস্তবায়ন উপলক্ষে ৩ মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচীর আজ ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি। উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থা নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়। উদ্বোধন শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পূর্বঘোষিত ২ হাজার মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুরু কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মনোয়ারা বেগম ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থা, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিভিন্ন পরিবেশসচেতন সংগঠনের সদস্য ও তরুণেরা অংশ নেন।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে অতিথির বক্তব্যে রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। প্রত্যেক ধর্মে পরিচ্ছন্নতার কথা বলা হয়েছে। আমরা নিজের বাসা-বাড়ি, কর্মস্থল, আঙ্গিনা, চারপাশ, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিস্কার রাখতে পারলে জাতিকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখাসহ সবুজ শ্যামল সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। আমরা সকলে সচেতন হলে ডেঙ্গু সমুলে নির্মূল করতে পারবো। আমরা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই। এ জন্য ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভও করলে হবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ঠেকাতে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা আর একটি প্রাণও হারাতে চাই না। হাসপাতালের শয্যা বাড়াতে পারি, ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করতে পারি, চিকিৎসাসুবিধা দিতে পারি, কিন্তু একটি জীবন চলে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’
পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ পরিষ্কার রাখা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একার দায়িত্ব নয়। এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।’
বিভিন্ন পরিবেশসচেতন সংগঠনের সদস্য ও তরুণেরা অংশ নেন।
গত ২৫ জুলাই থেকে প্রতি শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে আসছে জেলা প্রশাসন। প্রথম দিনের অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও স্থাপনা থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এবং কালুরঘাটের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ কার্যক্রমের আওতায় এসেছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, পুকুর ও জলাশয় পরিষ্কারের মাধ্যমে মশার প্রজননঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সেগুলো ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব এলাকা এখনো এ কার্যক্রমের আওতায় আসেনি, পর্যায়ক্রমে সেখানেও অভিযান চালানো হবে। এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক কর্মশালায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ আয়োজিত ওই কর্মশালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক অভ্যাসে পরিণত করতে জেলা জুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

মন্তব্য করুন