চবি আইন বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় ৫ম নিলস চ.বি. মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় ৫ম নিলস চ.বি. (রেজিওনাল) মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ৬ ফেব্রুয়ারি। দ্যা নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল স্টুডেন্টস- নিলসের আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ল’ কলেজের নবীন আইনজীবী প্রার্থীদের জন্য একটি যুক্তিভিত্তিক লিখিত ও মৌখিক উপস্থাপনার মাধ্যমে বক্তৃতার দক্ষতা বৃদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তিক কুশলতা অর্জনের সুযোগ প্রদান করেছে। এই আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও ল’ কলেজের শিক্ষার্থীদের বিপুল অংশগ্রহণ মুটিং সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের স্পষ্ট প্রমাণ বহন করছে।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা জজ মোহাম্মদ সরওয়ার আলম। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুহিউদ্দিন।

বিচারকমন্ডলীর মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন আইনী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবিদ ও আইনজীবী, যাঁরা লিখিত ও মৌখিক যুক্তিভিত্তিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন। বিচারক প্যানেলের সদস্যরা ছিলেন: নাজমুল আলম আশিক, লেকচারার, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; তারিন হাসান, লেকচারার, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; জারিফ উল্লাহ হেমেল, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, এ. এস এন্ড অ্যাসোসিয়েটস; ফাহিমা আক্তার মজুমদার, লেকচারার, বি.জি.সি. ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ; তানজিলা আহমেদ, লেকচারার, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; হাবিবা খাতুন রিতু, আয়োজক সচিব, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ল সোসাইটি মুটিং এন্ড ডিবেটিং ক্লাব; মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট সোসাইটি; ফজলে রাব্বি তাওহিদ, সভাপতি, নিলস বাংলাদেশ; ইতমিনান মনির বাসিলিস, সাধারণ সম্পাদক, নিলস বাংলাদেশ; ওয়াইদাতুল আকমাম তাসিন, ফেলো, টিচ ফর বাংলাদেশ।

তাছাড়া ফাইনাল রাউন্ডের বিচারকদের অন্যতম ছিলেন মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, বি.জি.সি. ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ; নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ও সেশন জজ, কক্সবাজার; হোসাইন মোহাম্মদ ইউনুস সিরাজী, সহকারী অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; ফয়সাল বিন মনির জনি, সহকারী অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; সরওয়ার আলম, জেলা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩।

জনাব মোহাম্মদ সরওয়ার আলম তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, “মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে প্রায়শই কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার পরিবর্তে বাস্তব জীবনের প্রয়োগে রূপান্তর করার এক অনন্য সিড়ি। এটি কেবল বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা ও আইনি গবেষণার দক্ষতা গড়ে তোলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রভাবশালী বিতর্ক ও যুক্তি প্রদানের কলাকে শানিত করার মঞ্চও প্রদান করে, যা একজন প্রগাঢ় এবং সক্ষম আইনজীবীর ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।” তিনি আয়োজনকারীদের প্রশংসা জ্ঞাপন করেন, যারা শিক্ষাকে বাস্তবায়িত আইনি প্রশিক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে এমন একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেকে যাচাই ও উদ্ভাবনের সুযোগ পায়।

বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন উল্লেখ করেন, “যেখানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মুটিং-এর সুযোগ সীমিত, সেখানে এই ধরনের প্রতিযোগিতা দারুন ভূমিকা পালন করে। এটি আইন বিষয়ক গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আইনি চর্চার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে তাদের দক্ষতা উন্নত করেছে এবং চট্টগ্রামে মুট কোর্টের সংস্কৃতি সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পুরস্কৃত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ভেরিতাস ভিনসিত (রিদিতা রাব্বি, সাদিবা জাহান, ইভান হাসান, আব্দুল খায়র); রানার-আপ হিসেবে পুরস্কৃত হয় সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের টিম লুবধক ( ফারিহা বিনতে আলম, নাহিদা আরাবি, মোঃ: মনজুরুল ইসলাম, কিবরিয়া নূর)। বেস্ট মুটার এওয়ার্ড অর্জন করে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থী নাহিদা আরাবি, মোস্ট প্রমিসিং লয়ার এওয়ার্ড পায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারিহা তাসনিম রুহি। বেস্ট রিসার্চার এওয়ার্ড প্রদান করা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ: রেফাত আলী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহামুদুল হাসানকে। বেস্ট মেমোরিয়াল এওয়ার্ড পায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সাল আনভেইলারস (মাহামুদুল হাসান, ফারিহা তাসনিম রুহি, সায়মা আক্তার ইস্পা, ইলতেজা তাবাসসুম তাকিয়া)।

সর্বোপরি বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি হয়। এই প্রতিযোগিতাটি চট্টগ্রাম অঞ্চলে আয়োজিত আইন শিক্ষাভিত্তিক প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন