চট্টগ্রামে ভবন মালিক ও সিডিএ মুখোমুখি!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রামে খাল পুন:খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের বাস্তবায়নের শেষ দিকে একটি বহুতল ভবন মালিক ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এতে প্রকল্পের কাজ যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি ভবন মালিকদের সাথে সংস্থাটির দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হচ্ছে। সাফ জাফর ভিলা নামে ১২ ওই ভবনের মালিকদের অভিযোগ উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে সিডিএ। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট পিটিশন দায়ের করে আদালতের স্থগিতাদেশ পাওয়ার পরও বাসিন্দারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে ভবনের বড় একটি অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ভবনের ৪৪টি পরিবারের কয়েকশো সদস্য আতঙ্কে দিন পার করছেন। অন্যদিকে সিডিএ বলছে, সরকারি খালের জমি দখল করেই ভবনটি গড়ে তোলা হয়। শুধু তাই নয় সিডিএ প্রদত্ত ইমরাত নকশা প্ল্যানও লঙ্গ করেছে ভবনের মালিকরা। উচ্ছেদ করতে গেলে হাইকোর্টে রিট করে প্রকল্পের কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়।

সাফ জাফর ভিলার বাসিন্দাদের দাবি, ভবনটি ২০১৮ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমির উপর আইন মেনে নির্মিত হলেও সিডিএ কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের শেষ দিকে এটিকে খালের জায়গা দখল করে নির্মিত বলে অভিযোগ তুলে। শুরু থেকেই ফ্ল্যাট মালিকরা সিডিএকে জানিয়ে আসছিল ভবনটির যতটুকু অংশ খালের উপর নির্মিত পরিমাপে প্রমাণিত হলে ততটুকু ভাঙতে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন এবং উচ্চ আদালত থেকে ভবন ভাঙার ওপর অন্তর্র্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। তবে আইনগত এই রক্ষা কবচ থাকা সত্ত্বেও সিডিএ অত্যন্ত আকস্মিকভাবে বিনা নোটিশে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।

সাফ জাফর ভিলার ফ্ল্যাট মালিক হুমায়ুন কবির চৌধুরী জানান, ঈদের ছুটির মধ্যে যখন মানুষজন আনন্দে ছিলেন, ঠিক তখনই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। ৪৪টি পরিবারের ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত করে সিডিএ। কেউ না পেরেছে গ্রামে যেতে, না পেরেছে ভবনে থেকে ঈদ করতে৷ সাজানো-গোছানো ভবনকে গাজাবাসীর মতো এক বিধ্বস্ত বাড়িতে পরিণত করে৷ এতে ভবনের বিরাট একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বেকায়দায় পড়েছি আমরা ৪৪ পরিবার৷

ফ্ল্যাট মালিকরা জানান, গত বছরের নভেম্বরে সিডিএ ভবনের উভয় দিকে খালের অংশ দাবি করে ৫ ফিট করে মোট ১০ ফিট ভাঙতে চায়। সেই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ভবনটি ভাঙতে শুরু করে সিডিএ৷ এ ঘটনায় চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ভবনের বাসিন্দাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ভবন ভাঙার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

এই সময়ে সিডিএ ও জেলা প্রশাসন সাফ জাফর ভিলা পরিমাপ শুরু করে৷ ভবন মালিকদের দাবি, জমির সিট অনুসারে ভবনটি একপাশে ৫১ ফিট ও অন্যপাশে ৫৮ ফিট। এর মধ্যে খালের প্রকৃত প্রস্থ পশ্চিমে ৫১ ফিট ও পূর্বে ৪৮ ফিট। কিন্তু সিডিএ কর্মকর্তারা মনগড়াভাবে একদিকে ৮ ফিট ও অন্যদিকে ৬ ফিট ধরে নিয়ে পরিমাপ করে। এতে খালের প্র্রকৃত প্রস্থ বেড়ে যায়। যাতে বাসিন্দারা ঘোর আপত্তি তোলে। এরপর ১১ মার্চ হাইকোর্টের শুনানীতে ভাঙন কার্যক্রমের উপর স্থিতিবস্থা দেওয়া হয়। এদিকে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেও একই অভিযোগ করেন ফ্ল্যাট মালিকরা। ফ্ল্যাট মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল জানান, ভবনটি খালের জায়গা দখল করে গড়ে না ওঠলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক ভবন ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আইনী প্রক্রিয়াকেও মানতে নারাজ সিডিএ কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, সিডিএ’র বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোন সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কস্ট্রাকশন ব্রিগেড সিডি ‘কে একটি চিঠি দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে ভবন মালিকের রিটের কারণে ৩ বছর ধরে খালের পাড়ে রিটেনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। খালের একটি দাগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। চিঠিতে ওই দাগে প্রবেশ করে প্রকল্পের আওতায় খাল খনন ও সম্প্রসারণের কাজ করার প্রয়োজন আছে বলে উল্লেখ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আহম্মদ মঈনুদ্দিন জানান, উচ্চ আদালত খালের জমির উপরে কোন স্থিতিবস্থা দেয়নি। দুটি দাগ সম্পূর্ণ আলাদা। এতে বলা হয়েছে খালের উপর আমরা নির্ভিঘ্নে প্রকল্পের কাজ চালাতে পারব। সাফ জাফর ভিলা সিডিএ’র নিয়ম লঙ্গন করে গড়ে ওঠে।

মন্তব্য করুন