বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর জুলুম: নজরুল ইসলাম

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, চট্টগ্রাম মহানগরী। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় নগরীর লালদিঘী জেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মিছিলযোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুর রহমান খান।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, নগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, এনসিপির মহানগরীর আহ্বায়ক মীর মো. শোয়াইব, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, এলডিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন আলম, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান, নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ জোবায়ের মাহমুদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আনোয়ার হোসাইন রব্বানি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় যুব সচিব অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নেজাম উদ্দিন এবং নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও কোতোয়ালী থানা আমির আমির হোসাইন।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কবলে পড়ল কেন বাংলাদেশ, সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় টানা কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের, বিশেষ করে শাকসবজি ও তরিতরকারির দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বাজারে এ ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অবৈধ মজুতদারি, সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, সরকারকে তার দায়বোধের জায়গা থেকে তা খুঁজে বের করতে হবে। জনগণের দুর্ভোগকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই হুট করে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং ভুতুড়ে বিলের নামে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক গ্রাহক প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল পাওয়ার অভিযোগ করছেন। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত বিল আদায়ের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে ভুতুড়ে ও অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংকটের সময়ে জনগণের স্বার্থ বিবেচনা না করে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বাজারে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না, অথচ খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। অবৈধ মজুতদারি, সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত মুনাফা ও কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে কেউ বাজার অস্থিতিশীল করছে কি না, তা কঠোরভাবে তদন্ত করতে হবে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে সরকারকে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী চললেও এখনো জুলাইয়ের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। যারা দেশের পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের দ্রুত গেজেট প্রকাশ করতে হবে এবং তাদের পরিবারের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়ার সুযোগ নেই।

পরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ফখরে জাহান সিরাজী সবুজ, বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান, আইনজীবী সমিতির সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল বারী, অ্যাডভোকেট আবুল মোজাফফর, অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম, অ্যাডভোকেট মো. শওকত হোসেন চৌধুরী (এরশাদ), অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমদ, অ্যাডভোকেট আশরাফুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মো. শাহেদ হোসেন।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে ১১ দলীয় ঐক্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, ভয়াবহ লোডশেডিং বন্ধ, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও ভুতুড়ে বিল আদায় বন্ধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের গেজেট প্রকাশসহ জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

মন্তব্য করুন