
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটকবান্ধব, নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে আজ ৮ নভেম্বর রোববার বিকেলে পতেঙ্গার খেজুরতলা সমুদ্র সৈকতে র্যালি, আলোচনা সভা ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচীতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) মহাপরিচালক (সচিব) মোঃ আমিনুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), জেলা প্রশাসনের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মসূচীতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে আরও চমৎকারভাবে বিশ্বমানের, আন্তর্জাতিকমানের এবং ডোমেস্টিকেবল বা আরও বেশি দৃশ্যমান ও ভাইব্রাল করে তোলা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। চট্টগ্রাম শুধু একটি কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক শহর কিংবা পোর্ট সিটি নয়, এখানে সাগর, সৈকত, সমুদ্র, পাহাড়, হ্রদ, উপত্যকা, নদী ও খাল রয়েছে-যা এখানকার এক অপূর্ব জীববৈচিত্র্য তৈরি করেছে।
শহরটিকে ‘ওয়ন সিটি, টু টাউন’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিকে কমার্শিয়াল ফ্রেইট এবং অন্যদিকে পর্যটন-এই উভয় দিককে কাজে লাগালে জিডিপিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। আশপাশের দেশগুলো-যেমন শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, ভারতের পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন নতুন ধারণা উন্মোচন করতে হবে এবং বিশেষ করে ‘খেজুরতলা’ সমুদ্র সৈকত এলাকাটিকে আরও উন্নত ও স্পেশালাইজড জোন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
এনআইএলজির মহাপরিচালক (সচিব) মোঃ আমিনুল ইসলাম, বলেন, একক কোনো সংস্থার পক্ষে পুরো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল ও ডাবের খোসা যত্রতত্র না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনায় পানি জমতে দেয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সমুদ্র সৈকতকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে এবং এটি শুধু আজকের জন্য নয়, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কোন বিকল্প নেই। আমরা সকলে মিলে আন্তরিক হলে নান্দনিক ও পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়া সম্ভব।
পর্যটকদের উপযোগী পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য একটি উপযুক্ত ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশাসন থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা নিয়মিত বজায় রাখা হবে। জেলা প্রশাসনের এ ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সকলের আন্তরক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পতেঙ্গা ও খেজুরতলা সমুদ্র সৈকত এলাকায় পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এটি নতুন পর্যটন স্পট। পতেঙ্গা ওয়েস্ট পয়েন্ট থেকে শুরু করে খেজুরতলা সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত এলাকাকে নতুনভাবে সাজানো এবং পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমুদ্র সৈকতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপস্থাপন বিষয়ে তিনি বলেন, খেজুরতলা সমুদ্র সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করার জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে ডিসি বরেন, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং বিভাগীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে এই পুরো এলাকাকে একটি নান্দনিক রূপ দেওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা পেলে চট্টগ্রামকে পর্যটকবান্ধব, নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ চট্টগ্রাম গড়া হবে।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ডিসি জাহিদ বলেন, পতেঙ্গা এবং খেজুরতলা সৈকতে ওয়াশরুম সুবিধা, গ্রিন জোন তৈরি, এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং নান্দনিক পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করার পাশাপাশি সমুদ্র সৈকত এলাকায় নির্মল বাতাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।









