ডাকসুতে ভরাডুবি বিএনপির কর্মের ফল

কাজী ইব্রাহিম সেলিম : সংখ্যালঘুর বাড়ি-ঘরের সামনেও দখলের চেষ্টা, মেয়রকে অভিযোগ দিয়েও মুক্তি না মিলাসহ নানা কারণে বিএনপির প্রতি জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। শিবির চাঁদাবাজী-দখলবাজী থেকে দূরে থেকে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। লেখকরা তুলে ধরার মতো ভাল কাজগুলো খোঁজে পেতে হবে কিন্তু বিএনপির মাঝে তা খোঁজে না পেয়ে চাঁদাবাজী-দখলবাজীর ঘটনা গুলো লিখতে হচ্ছে প্রতিনিয়তই। সেজন্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজী-দখলবাজীর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিধি নিষেধ না মেনে কিছু সংখ্যক পাতিনেতা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজী-দখলবাজী করে গোটা বিএনপির জন্য অমঙ্গল বয়ে এনেছে। ডুবিয়ে দিয়েছে পুরো দলটিকে, তা ডাকসু-জাকসুর নির্বাচনেই প্রতীয়মান হয়েছে। কারণ বিএনপি নামধারী এসব পাতিনেতা-কর্মীর চাঁদাবাজী-দখলবাজীর কারণে বিএনপির নিজ দলের সমর্থিত লোকেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।

ফলে জনগণ নির্ভলশীল দল হলেও বিএনপি সমর্থিত জনগণই বিএনপির বদলে জামাতকে ক্ষমতায় আনলে নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টি হবে মনে করছেন। সেজন্য, দেশের প্রতিটি নাগরিকের বাড়ি-ঘরে পরিবারের সদস্যদেরকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করে তুলেছেন। ফলে ডাকসু-জাকসুর নির্বাচনে শুধু শিবিরের ভোটে নয়, বিএনপিসহ সব দলের মানুষের পড়–য়া ছেলে-মেয়েদের ভোটে শিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। ডাকসুতে ছাত্র শিবিরের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম একাই ১৪,০৪২ বিপুল ভোটে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। আর ছাত্র দলের আবিদুল ইসলাম খান ৫৭০৮ অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে ধরাশায়ী হয়েছেন। জাকসুর নির্বাচনেও শিবিরের বিশাল বিজয়, তবে শিক্ষার্থীরা ভিপি পদে শিবির প্রার্থীকে না চাইলেও বিএনপির উপর ভরসা করতে পারেনি সেজন্য, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোটে জিতিয়ে এনেছেন। এটিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির জন্য অশনি সংক্ষেত মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

যেসব কারণে ভরাডুবি: জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে ১৬ বছর ধরে আওয়ামীলীগের ভয়ে পালিয়ে থাকা অযোগ্য লোকগুলো যেন ইন্দুরের গর্ত থেকে বেরিয়ে হঠাৎ উইপোকার পুন্দে পাকা গজালে লাফালাফি করে মরে, তারাও পতন বয়ে আনতে উইপোকার মতোই লাফালাফি শুরু করেছে। যেমন, চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় বিএনপির কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপাতে গিয়ে দোকান-পাটও ভাঙ্গচুর করেছে, আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদের সড়ক অবরোধ করলে জনদুর্ভোগও সৃষ্টি হয়েছে। ওই সময় তারা সন্ত্রাসীদের আস্তানা-আওয়ামীলীগের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও স্লোগান দিলেও প্রকৃত পক্ষে তারা দখলকৃত একটি দোকানে টাঙ্গানো বিএনপির নেতার ছবি-ব্যানার ছিড়ে ফেলতে দেখা গেছে। সেজন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা মনে করেন, আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ মাঠে-ময়দানে না থাকায় সুযোগে চাঁদাবাজীর উদ্দেশ্যে এলাকা দখলের জন্য বিএনপিকে বিএনপিই কুপিয়েছে।

নগরীর পিলখানা: এলাকাবাসীরাও অতিষ্ঠ হয়ে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, চাঁদাবাজী-দখলবাজীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে সভা-সমাবেশ করতে দেখা যায়।

নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায়: মানুষের মুরশী এখোয়ারকৃত জায়গা জবর দখলের চেষ্টা, এমনকি কবলামূলে মালিকানা জায়গাও বিএনপি নামধারী কিছু পাতিনেতা-কর্মী জবর দখল করতে চাইলে ঝগড়া-বিবাদের সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা বিএনপি সমর্থিত লোকগুলোকে আওয়ামীলীগ করে অপবাদে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন, চসিক ও সিডিএর লোকজনের মাধ্যমে দখল করার ভয়-ভীতিও দিয়েছেন।

সে অভিযোগ নিয়ে অসহায় এক মহিলাকে সিটি মেয়রের সাক্ষতের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, মেয়রের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগের উপর অভিযোগ দেওয়া, কার্যালয়ে মেয়রের লোকজন ও পিএসকে অসহায় এ ব্দ্ধৃা মহিলা কাঁন্না-কাটি করে বিএনপির এ কর্মীদের জুলুম-অত্যাচারের বিষয়টা জানাতে দেখা গেছে। কিন্তু তারা এ অন্যায়র বিরুদ্ধে সোচ্ছার হতে ও মেয়রের মাধ্যমে প্রতিকারের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি। ওই সময় পুলিশ এলে ১/৬/২৫ সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা জায়গাটি (এস আই নয়নকে) সরেজমিনে দেখানো হলে ওইদিন রাত ৮ টায় থানায় ওই মহিলার দলিলপত্র ও সার্ভেয়ারের দেওয়া কপি দেখে (এস আই ছালে) বলেন, ‘জায়গাটি মহিলার প্রাপ্য।’ পুলিশের (এস আই নয়ন ও ছালের) ন্যায়নিষ্ঠতার বিষয়টিও মহিলা লিখিভাবে মেয়রের কার্যালয়ে জমা করেছেন, এ চাঁদাবাজ-দখলবাজদের থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে।

নগরীর আসকার দিঘী এলাকায়: সংখ্যালঘু নাগরিক থানা পুলিশের আশ্রয় নিয়ে কয়েক মাসের জন্য দখল কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে একদিন সিটি মেয়র ওই এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে গেলে, সেখান থেকে বিএনপির নেতার অনুরোধে জায়গাটিতে মেয়রের উপস্থিতি।…এরপর দেখাগেল আরেক পাশে দখল করা শুরু করেছে। সেজন্য, আবারো থানা পুলিশের আশ্রয়ে দখল কাজ বন্ধ করা হয়েছে। এরপর সংখ্যালঘু সুচতুর ওই বাড়িওয়ালা ঝুঁকি নিয়ে ওই দখলকৃত কাঠগুলো ভেঙ্গে ফেলে দিয়েছে, ও তার বাড়ির সামনের জায়গাটিতে দ্রুত বাড়ির চলাচলের রাস্তা করে নিয়ে রেহায় পেলেন। এভাবে পুরো দেশজুড়ে বিএনপির মাঝে শান্তি খোঁজে পাওয়ার আশাবাদী মানুষগুলো চাঁদাবাজী-দখলবাজীর কারণে বিএনপির প্রতি ভরসা হারিয়ে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ পথে-ঘাটে হাঁটা-চলার সময় এসব বিষয়গুলো দেখতে পায়, চায়ের দোকানে বসা মানুষগুলো মুখে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করতে শুনা যায়।

সেজন্য ভাবছি, দু’কলম লিখার মাধ্যমে এখনো যারা অচেতন রয়েছে তাদেরকে জাগিয়ে তুলি। অল্প সংখ্যক খারাপ লোককে দল থেকে বহিস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা না করলে তাদের অপকর্মের কারণে অধিক সংখ্যক ভাল নেতা-কর্মী দুর্নামে পড়ছে। সেজন্য, বিএনপি করে দুর্নামে পড়ার ভয়ে ও লজ্জায় বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দেয়ার পরিবেশও তৈরী হচ্ছে। সেজন্য, বিএনপির ভাল কাজগুলোও যেনো লেখকরা তুলে ধরতে পারেন। তারা যেনো ভালো কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারেন. এটাই কামনা করছেন দেশের সাধারণ জনগণ।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক, সহ দপ্তর সম্পাদক, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ইউনিটি।

মন্তব্য করুন