
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বোয়ালখালীতে ব্যবসায়ী রিদোয়ান খানের উপর হামলাকারী চাঁদাবাজ জলদস্যু বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। আজ ১১জানুয়ারী রোববার চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত ব্যবসায়ী রিদোয়ান পুলিশ প্রশাসনের প্রতি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিদোয়ান খান বলেন, বোয়ালখালীর ৮নং শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হই। বিগত ৫ আগস্ট, ২০২৪ ইং স্বৈরাচার সরকার পতনের পর হইতে আমার নিজ এলাকায় কর্ণফুলী নদীর চর বেতাগী (প্রকাশ নাজির চর) পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্ব প্রান্ত ছাড়িয়ে নবনির্মিত চট্টগ্রাম ওয়াসা পানি শোধনাগার প্রকল্প পর্যন্ত বিস্তৃত নদীতে বালিখেকো আজিজুল হকের নেতৃত্বে অবৈধ বালি উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয়। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা লোডিং ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে বাল্কহেডের মাধ্যমে অবৈধ বালি পাচার শুরু করে যা কর্ণফুলী নদীর বন্দর চ্যানেল দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায় এবং চাঁদাবাজির নব্যরূপ চরখাজনা প্রতিষ্ঠা করে। যার মাধ্যমে দৈনিক ৫-৬ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে।
অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে চরবেতাগীর আমার পারিবারিক ও অন্যান্য মানুষের ফসলী জমির ভাঙ্গন শুরু হয়। তখন থেকে আমরা এলাকাবাসী প্রতিবাদ শুরু করি। সম্মুখ সারিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করি। যার পরিণাম স্বরূপ একটি রাজনৈতিক মামলায় মিথ্যা আসামী করে আজিজুল হকের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে পুলিশের হাতে সোর্পদ করা হয়। পরিনামে ২২ দিন কারাবাস লাভ করে জামিনে মুক্তি লাভ করি।
জামিনে মুক্তিলাভের কিছুদিন পর আজিজ বাহিনী পুনরায় শত্রুতায় লিপ্ত হয়। প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবি করতে থাকে। আমি বার বার চাঁদা দিতে অস্বীকার করি। যার ধারাবাহিকতায় গত গত ৩ জানুয়ারী সকা সাড়ে ১১.টায় আজিজুল হকের পালিত জলদস্যু বাহিনীর সদস্য নুরুল আবছার প্রকাশ কালা রোকচার (মাদক ব্যবসায়ী ও জলদস্যু), শহিদুল ইসলাম শহীদ প্রকাশ টাকলা শহীদ (জলদস্যু), জানে আলম নান্নু প্রকাশ ব্যাট্টা নানু (জলদস্যু), রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (মাদক ব্যবসায়ী), মোঃ আসিফসহ আরও অজ্ঞাত ২/৩ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাকে পথ রোধ করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে আমার পকেট থেকে ১,২২,০০০/- টাকা ছিনিয়ে নেয়।
দস্যুবাহিনীর সদস্যরা শুধু টাকা ছিনতাই করে ক্ষান্ত হননি, তারা আমাকে লোহার রড দিয়ে আমার দুই হাতে আঘাত করিলে আমার হাড়ভাঙ্গা জখম হয়। আমি প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি এবং এই হামলা এক ঘণ্টা যাবৎ চলতে থাকে। আমার আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হলে তারা পুনরায় নিয়মিত চাঁদা আদায়ের দাবি জানায়, অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এলাকাবাসী আমাকে উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। চিকিৎসাকালীন সময়ে আমি আমার পরিবারের পরামর্শে উক্ত ঘটনায় মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
পরবর্তীতে ৩ জানুয়ারী আমার সহধর্মিনী ও উপস্থিত স্বাক্ষীসহ বোয়ালখালী থানায় উপস্থিত হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করার চেষ্টা করি। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী মহলের অন্যায় ইন্ধনে উক্ত এজাহার থেকে চাঁদাবাজির অংশ বাদ দিয়ে এজাহার দাখিল করার পরার্মশ দেন। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে বিগত ০৬-০৬-২০২৬ইং তারিখে থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মোতাবেক চাঁদাবাজির অংশ বাদ দিয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ছাড়াও বিবরণপূর্বক এজাহার দাখিল করি যাহার মামলা নং- ৩/২০২৬।
দুঃখের বিষয়, আসামী টাকলা শহীদ ও ব্যাট্টা নান্নু জলদস্যুরা বিগত ২৫/০৪/২০২৫ইং অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয় এবং ৭/০৯/২০২৫ইং তারিখে জলদস্যুদের এক গোপন আস্তানা থেকে দুটি ভারী মারাণস্ত ও ১৮ রাউন্ড তাজা বুলেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক হয় ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। তাতে প্রতীয়মান হয় যে, তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও জলদস্যুবাহিনী যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হয়। কিন্তু বালিখেকো আজিজুল হক তার দস্যুবাহিনী দ্বারা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ জিম্মি অবস্থায় আছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আইনি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে নির্যাতিত নাগরিক হিসেবে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছি।
আমার প্রত্যাশা, উক্ত ঘটনার সাথে যারা জড়িত এবং যারা দীর্ঘদিন এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে তাদেরকে গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা, অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ, চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল দিয়ে বালি সরবরাহ বন্ধ, বালিখেকো আজিজুল হকসহ জলদস্যুবাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশের আইজিসহ ঊর্ধ্বতন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।









