ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: নজরুল ইসলাম

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই বিপ্লব স্মরণে ১৬ জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে এক গণসমাবেশ নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।

নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, ১৬ জুলাই ২০২৪ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সেদিন রংপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সংঘটিত সহিংসতায় আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমদ শান্ত, ফারুক হোসেন, মো. শাহজাহান ও সবুজ আলীসহ নিহতদের আত্মত্যাগ আন্দোলনকে নতুন গতি দেয় এবং দেশব্যাপী গণজাগরণ সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ১৬ জুলাই ছিল এক রক্তাক্ত অধ্যায়। মুরাদপুরে নিহতদের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদের সমান রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, যথাযথ স্বীকৃতি এবং তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই শহীদ দিবসে আমরা সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে সত্য উদ্ঘাটন, নিরপেক্ষ বিচার, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির সরকারের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের হত্যার বিচার, আহতদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন এবং জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জনদুর্ভোগ সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অবিলম্বে শহীদদের হত্যার বিচার নিশ্চিত, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান তিনি জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমদ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, জাগপার চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান, খেলাফত মজলিসে চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হুমায়েদ রশিদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, পাঁচলাইশ থানা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, কোতোয়ালী থানা জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আলী এবং জুলাই যোদ্ধা আবরার হাসান রিয়াদ।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় প্রেরণা। তারা বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার, সকল শহীদের সমান রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং তাদের পরিবারের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শহীদদের রক্তের ঋণের প্রতি সম্মান জানিয়ে সত্য, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দল-মত নির্বিশেষে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শহীদ ফয়সাল আহমদ শান্তের পিতা জাকির হোসেন, শহীদ মাহবুবুল হাসানের বড় ভাই মাহমুদুল হাছান, নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমীর মাওলানা মুমিনুল হক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আযম, কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ, আনিছুর রহমান চৌধুরী, ওয়াসি উদ্দিন চৌধুরী আনছারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন