
নিউজগর্ডেন ডেস্ক: পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) থেকে চীন থেকে আনা ৭৮ কার্টন ক্যাপিটাল মেশিনারি গায়েব হয়ে গেছে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল এক আমদানিকারকের পণ্য খালাস করতে গিয়ে এমন পণ্য গায়েবের ঘটনা ধরা পড়ে। এরপর খোদ চীন থেকে সরবরাহকারী এসেছিলেন পিটিসি পরিদর্শনে, কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়েছিলেন পণ্যের খোঁজ। কিন্তু ঘটনার দুই মাস পেরোলেও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ের (আরএসজিটি) কর্মকর্তারা দিতে পারেননি গায়েব হওয়া পণ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য।
এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়ার্ডগুলো থেকে একের পর এক পণ্য উধাও ও চুরির ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল। সে সময় বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এবার দেশের প্রথম বিদেশি অপারেটর পরিচালিত পিসিটিতে একই ঘটনা ঘটল। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বললেন, বন্দর থেকে শত কনটেইনার উধাও হয়ে যায় বন্দর চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেন না। এখন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আরএসজিটিও যদি এমন অব্যবস্থাপনা দেখায়! তাহলে ব্যবসায়ীরা কার ওপর আস্থা রাখবেন?
এদিকে মেশিনারি না পেয়ে রাইয়ান নিট কম্পোজিট লিমিটেড উৎপাদন সচল রাখা নিয়ে বিপাকে পড়েছে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই বিজিএমইএ সচিব আরএসজিটিকে চিঠি দিয়ে পণ্যের খোঁজ দিতে বলেছেন। রাইয়ান নিট কম্পোজিট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) এ বি এম হালিম বলছিলেন, মেশিনারিজ না পেয়ে আমার একটা চালান যথাসময়ে উৎপাদন করতে পারিনি। দেরিতে উৎপাদিত পণ্য বিদেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে এয়ারশিপমেন্ট করতে হয়েছে। আমরা একটা যৌথ জরিপ করে পণ্যের হদিস ও বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চেয়েছি। কিন্তু আরএসজিটি থেকে সাড়া মিলছে না।
তবে উধাও পণ্যের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল, চট্টগ্রামের এইচবিডি মেশিনারি একই ধরনের মেশিনারি এনেছিল চীন থেকে। নিজেদের পণ্যের সঙ্গে ‘গায়েব’ ক্যাপিটাল মেশিনারি তারাই বের করে নিয়ে গেছে। আর এর সঙ্গে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার সি ট্রান্ডজ বাংলাদেশের জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। আরএসজিটির সিসিটিভি ফুটেজে এসব মেশিনারি পণ্য নিতে দেখা গেছে। কিন্তু বিষয়টি স্বীকার করতে বা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ আরএসজিটির কর্মকর্তারা।
অবশ্য আরএসজিটি বাংলাদেশের হেড অব কমার্শিয়াল সৈয়দ আরেফ খুরশিদ পণ্য হারানোর কথা স্বীকারই করলেন না। তার দাবি, ‘কার্গো চালান হারায়নি। অনেক পণ্য আছে ইয়ার্ডে সে কারণে একই পণ্য অন্যদের সঙ্গে এক্সচেঞ্জ হতে পারে। আমাদের টার্মিনাল থেকে গায়েব হওয়ার আশঙ্কা নেই।









