ঠিকাদারের কাজ বন্ধ, নিজস্ব অর্থায়নে হাজারী সড়ক মেরামতে বিএনপি নেতা

মো. সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম): “হাজারী সড়কে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামকে জানালে তিনি জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের জন্য আমাকে বলেন। এরপর নিজস্ব অর্থায়নে মেরামতের কাজ শুরু করেছি।”
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক বরুমচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনুছ চৌধুরী রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে বরুমচড়া হাজারী সড়কের মেরামতকাজ শুরুর সময় এ কথা বলেন।
দীর্ঘদিন সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় বরুমচড়া হাজারী সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের নির্দেশে ইউনুছ চৌধুরী নিজস্ব অর্থায়নে জরুরি মেরামতকাজ শুরু করেছেন।
রোববার সকাল থেকে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে মেরামতকাজ শুরু হয়। কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরুমচড়া হাজারী সড়কের এক কিলোমিটার অংশ কার্পেটিংয়ের জন্য প্রায় ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ঠিকাদার মো. আমিন ওই কাজের দায়িত্ব পান। পরে তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজটি দেন।
সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ নেওয়া স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, তাঁরা প্রায় ৬৪ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করেছেন। তবে এলজিইডি অফিস থেকে বিল পেয়েছেন মাত্র ৬ লাখ টাকা। তাঁদের দাবি, বিটুমিনসহ নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বেড়ে যাওয়ায় কাজের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বিল না পাওয়ায় আর্থিক সংকট তৈরি হয়। ফলে একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
জেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং ঠিকাদারদের কাজ করতে অপারগতার কারণে চট্টগ্রামে এলজিইডির আওতাধীন ১০৭টি সড়কের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার সাতটি সড়ক রয়েছে। বরুমচড়া হাজারী সড়কও ওই তালিকায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংস্কারকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদেরও দুর্ভোগ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে সড়কটি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
যুবদল নেতা আহমদ নুর বলেন, ঠিকাদাররা বিল না পাওয়ায় কাজ ফেলে রেখে চলে গেছেন। বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। বিষয়টি সংসদ সদস্যের নজরে গেলে তাঁর নির্দেশে জরুরি মেরামতকাজ শুরু করা হয়েছে। তাঁর নির্দেশনা ছিল, আগে জনগণের দুর্ভোগ দূর করতে হবে।
সড়ক মেরামতকাজ শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ ইউনুছ চৌধুরী, মোহাম্মদ আনিছুর রহমান চৌধুরী, আহমদ নুর, মোহাম্মদ আবুল কাসেম সাওদাগর, মোহাম্মদ সেন্টু, মোহাম্মদ কামাল মাস্টার, মোহাম্মদ জামাল, মোহাম্মদ ওসমান, মোহাম্মদ মনিরসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম বলেন, বরুমচড়া হাজারী সড়কসহ আনোয়ারার সাতটি সড়কের কাজ ঠিকাদাররা না করায় টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। শিগগিরই এসব সড়কের জন্য নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

মন্তব্য করুন