
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীন চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দায়িত্বশীল সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) নগরীর বহদ্দারহাটস্থ একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বাছাইকৃত ৫৫ জন বিশিষ্ট আলেম-ওলামা অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি ড. প্রফেসর সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান এবং সঞ্চালনা করেন ড. আবুল কালাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওলাদে রাসূল (সা.) সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন তাহির জাবিরী আল-মাদানী। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ফখরুদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান ও পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সম্মেলনে মুদাররিস হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বি. এম. মফিজুর রহমান আজহারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওলাদে রাসূল (সা.) সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন তাহির জাবিরী আল-মাদানী বলেন, “উম্মাহর বর্তমান সংকট উত্তরণে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ, আপোষহীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভেদ নয়, বরং ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আলেমদের আদর্শিক নেতৃত্ব ও সাহসী ভূমিকার মাধ্যমেই জাতি সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, ইসলামের মৌলিক আদর্শ, নৈতিকতা ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আলেম সমাজকে জনগণের পাশে থেকে দাওয়াত, শিক্ষা, গবেষণা এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। মতপার্থক্যকে বিভেদের কারণ না বানিয়ে কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে বৃহত্তর ইসলামী ঐক্য গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান আলোচক মাওলানা ফখরুদ্দিন বলেন, কুরআনের সঠিক মর্মবাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, গবেষণাভিত্তিক তাফসিরচর্চা এবং যুগোপযোগী ইসলামী চিন্তার বিকাশে মাজলিসুল মুফাসসিরীনের দায়িত্ব আরও ব্যাপক। এ লক্ষ্যে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে আলেমদের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কুরআনভিত্তিক জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক, নৈতিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতে বিভাগীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়মূলক উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আজিজুল ইসলাম, মাওলানা আবুল ফজল, এ. বি. এম. তোফায়েল, মাওলানা ফেরদৌস আলম, মাওলানা মাহতাবউদ্দিন, অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ বোরহানুদ্দীন, মাওলানা ইসমাঈল হোসাইন, মাওলানা রাশেদুল হক, মাওলানা এনামুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মুহাম্মদ হাফিজুল হক নিজামী, অধ্যাপক মাওলানা জাকির হোসাইন, মাওলানা জামাল উদ্দিন, মাওলানা মজিবুল হক, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা শরিয়ত উল্লাহ জিহাদী, মাওলানা হাবিবুর রশিদ, ড. মাহমুদুল হক ওসমানী, মাওলানা উসমান গনি, মাওলানা ফারুক হোসাইন, মুফতি মাওলানা আবু হানিফা নোমান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা সলিমুল্লাহ হাবিবী, মুহাদ্দিস মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হারুনুর রশিদ, মাওলানা জিয়াউল করিম নিজামী, মাওলানা সাঈদ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মাওলানা রুহুল আশরাফ রমজান, মাওলানা আবরার হোসাইন আসহাবী, চুনতি মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, চুনতি মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ, মাওলানা মহিউদ্দিন সিকদার, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা আইয়ুব আলী আনসারী, মাওলানা মুহাম্মদ এমদাদুল হক নিজামী, মাওলানা আশরাফুল মোস্তফা, মাওলানা জামাল হোসেন জিহাদী, মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, মাওলানা শেখ আহমেদ মজুমদার, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা মোহাম্মদ মোহছেন আল হোসাইনী, মাওলানা আনোয়ারুল আজীম, মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন, মাওলানা শাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা হাসান মুরাদ, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেম-ওলামা উপস্থিত ছিলেন।









