
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আলী মিয়া চৌধুরী ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কর্মী। ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সম্মুখ সমরে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি বুড়িচং এলাকায় স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযোদ্ধা তথা জাতির বীর সন্তানেরা কোন পরিবার বা গোষ্ঠীর নয় তারা পুরো বাংলাদেশী জাতির অহংকার। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী মিয়া চৌধুরী ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ।
ভাষা সৈনিক, বীরমুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলী মিয়া চৌধুরী ১৯২৫ সালে ২১ ফেব্রয়ারি পিতা- মৌলভী হাজী ফয়েজুর রহমান চৌধুরী মাতা- মোছাম্মৎ জুলেখা খাতুন এর ঘরে আনোয়ারা উপজেলার মামুর খাইন গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
তিনি মক্তব ও প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে গুজরা উচ্চ বিদ্যালয়ে (পববর্তী নাম:- গুজরা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়) ভর্তি হন। লেখাপড়া, খেলাধুলা, সালিস-দরবার-বিচার, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকান্ড তিনি শৈশব থেকেই বিচক্ষণ এবং বুদ্ধিমান ছিলেন।
১৯৪৩ সালে তিনি মেট্রিকুলাস (এস.এস.সি) পাশ করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজ (চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ)। সেখানে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্রদের মধ্যে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিতেন।
১৯৪৫ সালে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে বিএসসি তে ভর্তি হন এবং পাশাপাশি পরিবারিক ব্যবসা রেঙ্গুম (আরকান, বার্মা বর্তমানে মিয়ানমার) শহরে যাতায়াত করতেন। সেখানে আপন চাচা ও ভাইগণ রেঙ্গুম শহরে নারিকেল সুপারি আড়ৎদার ছিলেন।
বিএসসিতে ভর্তি ছাত্র কালে ১৯৪৫ সালে সাবেক পটিয়া বর্তমানে চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নের বরকত গোয়াজ খাঁ বাড়ির মো: ছিদ্দিক আহমদ ও মোছাম্মৎ কুনসুমা খাতুন এর মেয়ে মোছাম্মৎ গোলবাহার খাতুন’র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া এবং রেঙ্গুমে ব্যবসায়িক কাজে আসা-যাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে চট্টগ্রাম কলেজ ভিত্তিক রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন, প্রগতিশীল চিন্তার আন্দোলনে অংশ গ্রহনসহ আর্থিক সহযোগিতা করতেন। পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দূকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার কথা ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা দিলে চট্টগ্রামে নেতৃবৃন্দ প্রচন্ডভাবে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন এবং লালদিঘি ময়দানে পূর্বপাকিস্তান স্বায়ত্ব শাসন ও রাষ্ট্রভাষা বাংলা এই দাবিতে চট্টগ্রামে এক গোপন সভায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে রফিক উদ্দিন সিদ্দিকীকে আহবায়ক এবং মাহবুবুল আলম চৌধুরী ও রেল শ্রমিক নেতা মাহবুবুল হককে যুগ্ন আহবায়ক করে মো.আলী মিয়া চৌধুরী’কে সদস্যক্রমে ৩নং করে অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির উদ্যোগে জনসভা আহবান করেন। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর প্রতিরোধের কারণে সভাটি হতে পারেনি। সভাটি বাঁধাগ্রস্ত হলে ভাষা আন্দোলনে চট্টগ্রামের গ্রামে গন্জে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ চট্টগ্রামের স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা রাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার দাবীতে সর্বাতœক হরতাল পালন করে।
ওই সময় পাকিস্তান তমুদ্দুন মজলিশের অধ্যক্ষ আবুল কাসেম, রফিক উল্লাহ চৌধুরী এবং আজিজুর রহমান ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করার সর্বাতœক প্রচেষ্ঠা চালান। ১৯৫০ সালে দেশে যখন দাঙ্গা বাঁধে তখন চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কর্মীগণ একটি সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এরপর রফিক উদ্দিন সিদ্দিকী, আবদুল হক দোভাষ, অধ্যক্ষ আবু হেনা,যোগেশ সিংহ, আবুল ফজল, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, মো. আলী মিয়া চৌধুরী, শওকত ওসমান প্রমূখের নেতৃত্বে একটা বিশাল শান্তি মিছিল পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে।
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে আনোয়ারাবাসীর ছিল অগ্রণী ভূমিকা। ১৯৪৮ সালের ১১মার্চ এবং ৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারী সারা দেশজুড়ে সর্বাতœক হরতালে আনোয়ারা আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়, পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয় ও বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করে। পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মসূচীতে পরৈকোড়া ইউনিয়নের সন্তান ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ আলী মিয়া চৌধুরী ও মোহাম্মদ হোসেন খান (আনোয়ারা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ) চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলিতে জন্ম হয় মুসলিম লীগ বিরোধী সংগঠন “আওয়ামী লীগ”। ১৯৫০ সালেই চট্টগ্রাম শহরের কে.সি.দে রোডস্থ চাতরী গ্রামের আবদুচ চত্তার সাহেবের ” পত্রিকা এজেন্সি ” কার্যালয়ে বসে অনুষ্ঠিত এক সভায় আনোয়ারা থানা আওয়ামী লীগের জন্ম হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন এম.এ. আজিজ ও জহুর আহামদ চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আবদুর চত্তার ( চাতরী), নুরুজ্জামান কেরানি (চাতরী), নুরুল ইসলাম জেহাদী(রায়পুর), জামাল উদ্দিন আহামদ( জামাল মিস্ত্রী)গহিরা, বশিরুজ্জামান চৌধুরী (হাইলধর), এম.এ.হক(বৈরাগ), মাওলানা ছালে জহুর( পশ্চিম গহিরা), আবদুচ সালাম আনোয়ারী, (তৈলারদ্বীপ), মোহাম্মদ আলী মিয়া চৌধুরী (মামুর খাইন), তোরাব উদ্দিন দফাদার(মামুর খাইন), নিত্যপ্রিয় দাশ(বোয়ালগাঁও), আবদুল জব্বার মাস্টার (গহিরা), নাসির উদ্দীন (তৈলারদ্বীপ), হাফেজ মোহাম্মদ শরীফ(রায়পুর), আবদুল মান্নান চৌধুরী (রায়পুর), ইব্রাহিম চৌধুরী (ওষখাইন), নিকুঞ্জ বিহারী বড়ুয়া (তিশরী), অজিত দাশ(শিলালিয়া), মাস্টার ইব্রাহিম চৌধুরী (মাহাতা), বজল আহমদ(ওষখাইন), প্রেমলাল বড়ুয়া ( চেনামতি), বনবিহারী বড়ুয়া (চেনামতি), আবদুর সত্তার(দেওতলা), কাজী ইউসুফ (কৈখাইন), আবুল মনসুর চৌধুরী (শিলাইগড়া), মনির আহমদ চৌধুরী (বটতলী) ও ছালেহ আহমদ চেয়ারম্যান (বারখাইন), আবুল কাসেম (বরুমচড়া) প্রমূখ।
এরই ধারাবাহিকতায় মো.আলী মিয়া চৌধুরী প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিলেন। সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক হওয়ার প্রস্তাব আসলে তিনি তা ফিরিয়ে দিতেন এবং তিনি বলতে সংগঠনের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকলেই হল, কাজকেই গুরুত্ব দিতেন বেশি। ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬’র ৬দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০সালের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের মাধ্যমে বীরত্বের সাক্ষর রাখেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার জন্য অস্ত্র সংগ্রহ এবং প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য একটি দল সংগঠিত করেন মো. আলী মিয়া চৌধুরী। তখন খবর টা পৌঁছে যায় স্থানীয় রাজাকারের কমান্ডার আবদুল হাকিম এর নিকট। তিনি তাঁর সঙ্গীয় দলবল নিয়ে তাঁর বাড়ি ঘর ঘিরে ফেলে, তিনি তাদের পাসকাটিয়ে পালিয়ে গিয়ে সাতাঁর কেটে মুরালী খাল পার হয়ে নানার বাড়ি পটিয়া উপজেলার ১৯(ক) শোভনদন্ডী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কুরাংগিরী গ্রামের জাফর আলী চৌধুরী বাড়ির নানা আনছুর আলী চৌধুরীর ঘরে আশ্রয় নেন। মাতা মোছাম্মৎ জুলেখা খাতুন ও মামা মনোহর আলী চৌধুরী সেখানে ছিলেন। সেখানে পনের দিনের মতো অবস্থান করে নিজের দলগুছিয়ে স্বদল বলে মামুর খাইন গ্রামে ফিরে আসেন এবং স্থানীয় আনছার কমান্ডার আবদুল আলীমের মাধ্যমে গ্রুফের ৩০জন সবাই কে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেন এবং নিজেও প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে এলাকায় পাহারাদার বসান। হিন্দু বৌদ্ধদের বাড়ি সহ অসহায় মানুষের বাড়ি ঘর সম্পদ লুটতরাজ বন্ধে রাজাকার আলবদর পাকিস্তানী বাহিনী কে প্রতিহত করার পরিকল্পনা এটেঁ এলাকায় শান্তি আয়নায়নের চেষ্টা করেন এবং ওষখাইন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ আগস্ট’৭১ পাকিস্তান দিবস উদযাপন বন্ধ করে পাকিস্তানী পতাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন কঠিন পদক্ষেপে রাজাকার কমান্ডার আবদুল হাকিম ক্ষিপ্ত হয়ে মো: আলী মিয়া চৌধুরী সহ আরও ৩০/৩৫ জনের নাম দিয়ে মামলা নং ৫৬৫, এসডিও কোর্ট পটিয়া, চট্টগ্রাম। তারিখ ২২/০৮/১৯৭১ ইং দাখিল করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাধন চন্দ্র দাশকে অমানবিক নির্যাতন করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার জবানবন্দি নিয়ে হাজতে চালান দেয়। তখন মো: আলী মিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘর্ষ ঘটে এবং রাজাকার আলবদর বাহিনী পিছু সড়ত্তে বাধ্য হন। তখন মুক্তিযোদ্ধাগণ খাসখামা তহসিল অফিস জ্বালাইয়া খাসখামার রাজাকার আবদুল হককে গুলি করিয়া হত্যার পরে টেলিফোনের তার কাটা ও গুজরা হাইস্কুলের রেকর্ডপত্র জ্বালিয়ে দিয়ে ওষখাইন গ্রামের আনোয়ারা থানা রাজাকারের কমান্ডার যুগ্ম আহবায়ক আবদুল হাকিম চৌধুরী কে হত্যা করিবার জন্য বাড়ি ঘেরাও করিয়া বেপরোয়াভাবে গোলাগুলি করা হয়।
পানি পথে কাছে এবং নিরাপদ মনে করে চটগ্রাম শহর থেকে হাজারী গলির স্বর্ণ ব্যবসায়ি সহ অসংখ্য ব্যবসায়ি এবং ধনাঢ্য ব্যক্তি নারী পুরুষ আশ্রয় নেন পরৈকোড়া ইউনিয়নে, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করেন তদানিন্তন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আলী মিয়া চৌধুরীসহ তাঁর অন্যান্য সদস্যগণ। রাজাকারেরা এই খবর পেয়ে তারা ডেকে নিয়ে আসেন পাঞ্জাবি মিলিশিয়া, বিপুল সংখ্যক পুলিশ, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস্ বাহিনীকে। মুক্তিযোদ্ধাগণ প্রতিরোধ করলেও তাদের গুলাবারুদ এর সামনে অসহায়ত্বে পিছু হাটতে বাধ্য হন। পাকিস্তানীসেনারা এবং এদেশীয় দোষররা তখন ১৯৭১সালে ২১শে মে পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয় দিঘিরপাড়, বাথুয়াপাড়া, পূর্বকন্যারা গণহত্যার চালায়, বাড়ি ঘর পুড়ে দেয়, লুন্টিত করে, নির্যাতন, হত্যাকান্ড চলিয়ে ১৭৬জন কে শহীদ করেন।
২৩সেপ্টেম্বর ১৯৭১ আনোয়ারা থানা অপারেশন পরিচালিত হয় সার্জেন্ট মহি আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন গ্রুফে বিভক্ত হলে সার্জেন্ট মহি আলম চৌধুরী প্রথম গ্রুফ, দ্বিতীয় গ্রুফ সুবেদার আবু ইসলাম আবু, তৃতীয় গ্রুফ আইয়ুব ও এম এ মজিদ। মো: আলী মিয়া চৌধুরী তাঁর দলবল নিয়ে সার্জেন্ট মহি আলম চৌধুরীর সাথে সহযোগী হয়ে আনোয়ারা থানা অপারেশন পরিচালনা করেন। এই অপারেশন এ তাঁর নিজ গ্রামেরও একজন রাজাকার নিহত হন।
তিনি পটিয়া থানা অপারেশন, মুরালী খালে সরকারি চাউল বোঝায় নৌকা ধরে নিয়ে নিরন্ন মানুষের মাঝে বিতরণসহ আনোয়ারা, চন্দনাইশ, পটিয়া থানা এবং চট্টগ্রামের অসংখ্য ছোট বড় সমূখযোদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। আনোয়ারা থানায় মুক্তিযোদ্ধাদের অস্থায়ী ক্যাম্প, ট্রেনিং সেন্টার, আশ্রয় কেন্দ্র, হিন্দু পরিবারের আশ্রয় স্থল, আশ্রয় কেন্দ্র তাঁর বাড়ি ও তিনি আশ্রয় দাতা হিসেবে ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ও পরে তিনি অসংখ্য সামাজিক প্রতিষ্ঠা সংগঠন গড়ে তোলেন:-
১৯৬৮ সালে ১৫ জুন প্রতিষ্ঠা করেন ওষখাইন মামুর খাইন তালশরা কৃষি সমবায় সমিতি লি: রেজি নং- ৮৭৪। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি পটিয়া উপজেলার বাথুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত প্রথমে সহ-সভাপতি পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তখন মামুর খাইন, ওষখাইন, তাতুয়া, তালশরা গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা বাথুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করতে অনেকদূর পথ পাড়ি দিয়ে মুরালী খাল পার হয়ে যেত।
স্বাধীনতার পর মামুর খাইন, ওষখাইন, তালসরা, শিলালিয়া, তাতুয়া লোকজন একত্রিত হয়ে মামুর খাইন বাংলা বাজার এর পাশে দীঘিরপাড় একটা হাইস্কুল করা উদ্যোগ নেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মিয়া চৌধুরী। গ্রামে গ্রামে মুটি চাউল ওঠায় এবং যার যতটুকু সাধ্যমত বাঁশ বেডাঁ খুঁটি দিয়ে এগিয়ে আসেন। কিন্তু গ্রামীণ কিছু ষড়যন্ত্রকারী হাইস্কুল টি প্রতিষ্ঠা করতে বাঁধা হয়ে দাড়াঁয়। এতে তিনি আশাহত হয়ে পাশ্ববর্তী মাহাতা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ ইদ্রিছকে ডেকে তৈরি করা সব বেড়া খুটি বাঁশ দিয়ে দেয় এবং একটা হাইস্কুল করার পরামর্শ দেন। সেই থেকে আজকের মাহাতা পাটনীকোঠা আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের গোড়াপত্তন শুরু। তিনি মাহাতা পাটনীকোঠা আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম সহযোগী এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের পূর্বে নন্দারগাঁ হাট অতিপরিচিত জমজমাট হাটবাজার। কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জনশূন্য হয়ে পড়ে তখন ১৯৭২সালে নন্দারগাঁ হাটকে বিলুপ্ত করে মো. আলী মিয়া চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন মামুর খাইন বাংলা বাজার। তাঁর লাগানো বাদাম গাছ গুলো এখনো কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। তাঁর পিতা মৌলভী হাজী ফয়েজুর রহমান চৌধুরী ১৯৪২ সালে নিজ জমি রেজিষ্ট্রেশন দান-দলিল দিয়ে মাটির ঘরে প্রতিষ্ঠা করে মামুর খাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৪৭ সালের বন্যায় বিদ্যালয়টি ভেঙে অচল হয়ে পড়ে। তিনি সেটা পুনরায় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মামুর খাইন জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা বারংবার গড়ে তোলা ও সম্প্রসারণে তাঁর ভূমিকা অন্যান্য। পুরাতন ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি তাঁর পৈত্রিক জায়গায় প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ করে দেন। মানুষে মানুষে বিবাদ মিটিয়ে দেওয়া, জায়গা সম্পত্তির বিরোধ নিষ্পত্তি ফায়সালা করে দেওয়া, গরীব শিক্ষার্থীর শিক্ষার ব্যবস্তা, অসহায় মেয়ে নারী-পুরুষের বিবাহ ব্যস্ত করার কাজগুলো লোকমূখে উপমা হয়ে রয়ে বেড়াচ্ছে আজও। এই মহান ভাষা সৈনিক, বীরমুক্তিযোদ্ধা, সমাজহিতৈষী, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ১৯৮১ সালে ৬ মার্চ পরলোক গমন করেন। মহান আল্লাহ পাক তাঁকে বেহেস্ত নসিব করুক, আমিন।









